বৃহস্পতিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৮

বৃহস্পতিবার, ৯ আগস্ট, ২০১৮

বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার উদ্দেশ্য ছিল।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে যতটা সম্ভব দূরে সরিয়ে রাখা। দূরে সরিয়ে রাখাটা শুধু ইতিহাস থেকে নয়, ভূগোল থেকেও।
যে সৈনিকরা বঙ্গবন্ধুর লাশ হেলিকপ্টারে করে টুঙ্গীপাড়ায় নিয়ে গিয়েছিল, তারা চেয়েছিল কফিনবন্দি লাশটিকে টেলিফোন নির্দেশে পূর্বে খুঁড়ে রাখা কবরে দ্রুত নামিয়ে রেখে ঢাকায় ফিরে আসবে এবং স্থানীয় পুলিশ ঐ কবর পাহারা দেবে।
কিন্তু তাদের ঐ পরিকল্পনায় বাদ সাধলেন মৌলবী শেখ আবদুল হালিম। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বললেন, এটি যে শেখ মুজিবের লাশ তা আমার নিজে চোখে দেখে নিশ্চিত হতে হবে, তারপর আসবে দাফনের প্রশ্ন। সৈনিক বললেন, আমাকে আপনার বিশ্বাস  হয় না?
শেখ আবদুল হালিম বললেন, এটা বিশ্বাস - অবিশ্বসের কথা নয়, এটা ধর্মীয় বিধান। সৈনিক দেখলেন, এ মৌলানাকে ভয় দেখিয়ে কাজ হবে না। মুজিবের লাশের সামনে দাঁড়িয়েও যে তর্ক করার সাহস রাখে তাঁর সঙ্গে আপোষ করাই ভালো। অগত্যা সৈনিকের নির্দেশে কফিনটি খোলা হলো। তখন মৌলবী শেখ আবদুল হালিম দেখলেন ঐ কফিনের ভিতরে শায়িত শেখ মুজিব। তাঁর চোখ জলে ভরে আসতে চাইলো। কিন্তু অনেক কষ্টে তিনি অশ্রু সংবরণ করলেন।
সৈনিক বললো, এবার জানাজা পড়ে দ্রুত দাফন করার ব্যবস্থা করুন। দশ মিনিট সময়।
শেখ আবদুল হালিম বললেন, ইসলামী মতে লাশকে দাফনের আগে গোসল দিতে হবে। সৈনিক বললো, তার দরকার নেই। তিনি বললেন, আছে। অবশ্য আপনি যদি বলেন যে, মুজিবকে শহীদ করে আনা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে আপনি যদি আমাকে লিখিত দেন, তাহলে আমি গোসল ছাড়াই লাশ দাফন করতে পারি। মৌলবীর অকাট্য যুক্তি এবং নির্ভয়চিত্ততার কাছে পরাভব মানলো ঐ সৈনিক। তাঁকে আরও কিছু সময় দেয়া হলো এবং দাফনকর্মে সহায়তা করবার জন্য আরও কিছু লোক আনবার অনুমতি পেলেন তিনি।
তখন বরফাবৃত শেখ মুজিবকে কফিন থেকে টুঙ্গীপাড়ার জন্মের মাটিতে নামানো হলো গোসল দেবার জন্য। একটি ৫৭০ সাবান কিনে আনা হলো। রেডক্রসের গুদাম থেকে কাফনের জন্য আনা হলো একটি মোটা সাদা থান কাপড়।
গোসল করার সময় দেখা গেলো বঙ্গবন্ধুর ফুলে-যাওয়া গা থেকে তাঁর পাঞ্জাবীটা কিছুতেই খোলা যাচ্ছে না। একটি দা দিয়ে তখন তা কেটে ফেলা হলো। গোসল করানোর সময় তাঁর তলপেট থেকে বেরুলো উঁকি দিয়ে থাকা একটা বুলেট। বেশ বোঝা গেলো যে আরও বুলেট রয়ে গেছে তাঁর দেহের ভিতরে। তাঁর পাঞ্জাবীর বুক পকেট থেকে আবিষ্কৃত হলো তাঁর কালো ফ্রেমের ভাঙ্গা-চশমাটি। নিচের বাম পকেট থেকে বেরুলো এরিনমুর তামাকের একটি ব্যবহৃত কৌটো এবং ডান পকেট থেকে পাওয়া গেল তাঁর সেই বিখ্যাত পাইপ।
বৃদ্ধ মৌলবী শেখ আবদুল হালিম বললেন, আমার মনে হয় গুলিতে মুজিবের মৃত্যু হয়নি। কেননা, তাঁর মাথায় বা বুকে কোথাও একটিও গুলি লাগেনি। তাই বোধ হয় মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য তাঁর পায়ের গোড়ালীর রগ কেটে দেয়া হয়েছিল।
তিনি জানান, নামাজে জানাজা শেষে, একটু দূরে অপেক্ষমাণ সন্ত্রস্ত জনতার অশ্রুসজল চোখের সামনে বঙ্গবন্ধুর লাশ যখন কবরের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন ডুকরে কেঁদে ওঠা এক বৃদ্ধা মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে সৈনিকের ব্যূহ ভেদ করে মুজিবের লাশের কাছে ছুটে যান। ইনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর দুই চাচী একজন হোলেন শেখ কবিরের মা অপর জন হোলেন Sheikh Kamrul Hasan টবার মা মরহুম শেখ কামরুন্নাহার, বৃদ্ধা তাঁর পুত্রপ্রতিম মুজিবের মুখখানা শেষবারের মতো দেখার অনুমতি প্রার্থনা করেন। তিনি কেঁদে কেঁদে বলেন, ওরে আমি কোলে-পিঠে করে মানুষ করেছি, ওরে শেষবারের মতো আমাকে দেখতে দাও। তখন সৈনিকটি রাজি হয়। বন্ধ করে ফেলা কাফনের বাঁধন আলগা করে আবার বৃদ্ধাকে ডাকা হয় লাশের পাশে। মাতৃসমা ঐ বৃদ্ধা তখন লাশের ওপর উবু হয়ে শেষবারের মতো তাঁর পুত্রবৎ মুজিবকে চোখ ভরে দেখেন এবং ডুকরে ডুকরে কেঁদে শুধু এই প্রার্থনাই করেছেন আমার নিষ্পাপ ছেলেটি কে যারা হত্যা করেছেন তাদের বিচার যেন এই বাংলার মাঠিতে হয়।
বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই এবং দোয়া করি পরমকরুনাময় সৃষ্টিকর্তা কাছে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। আমীন আমীন। আমীন

শনিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৮

দলের নেতৃবৃন্দের নামে বিরুদ্ধাচারন না করে, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন জনগণের মাঝে তুলে ধরুন- মীর মোশারফ

বেলকুচি প্রতিনিধিঃ দলের নেতৃবৃন্দের নামে বিরুদ্ধাচারন করে কাদা ছোড়াছুড়ি না করে, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন জনগণের মাঝে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে সিরাজগঞ্জ -৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী, ঢাকা মহানগর বনানী থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার স্বীকার সাবেক তুখোড় ছাত্রলীগ নেতা মীর মোশারফ হোসেন বলেন, স্থানীয় ভাবে কারো সমালোচনা না করে শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকান্ড জনগণের মাঝে তুলে ধরতে দলীয় নেতা কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। 
শনিবার (২৮ জুলাই) দুপুরে এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, মনোনয়ন দেওয়ার মালিক একমাত্র শেখ হাসিনা।তৃনমুলের সকল তথ্যই নেত্রীর কাছে আছে, তিনি নিশ্চিয় যোগ্য ব্যক্তিকেই নৌকার হাল ধরতে দিবেন। নেত্রী যাকেই মনোনয়ন দেবেন তার জন্যই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের কাজ নৌকার পক্ষে জনমত গড়ে তোলা। নেত্রী এখন বিশ্ব নেত্রী। তার হাতে দেশ ও জাতি নিরাপদ, যে কারনে দেশের চলমান উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে নৌকার বিকল্প নেই। 
এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে এসময় জেলা পরিষদ সদস্য শাহজাহান আলী, থানা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক আজগর আলী বিএসসি, সহসভাপতি আহম্মদ মোস্তফা খান বাচ্চু, সদিয়া চাঁদপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম সিরাজ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী, এবিএম শামীম হক, আলহাজ আলী, খুকনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আফাজ উদ্দিন,  বনানী থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আজম ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সেলিম, বেলকুচি উপজেলা আওয়ামীগের সদস্য আব্দুল হাকিম, বেলকুচি পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মীর সেরাজুল ইসলাম, রাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বদর তালুকদার, উপজেলা শ্রমিকলীগের সাবেক সভাপতি মোতাহার হোসেন সরকার, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন-আহব্বায়ক তারেক সরকার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। 

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মীর মোশারফ হোসেন নৌকার ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করে বেলকুচির দৌলতপুর, ধুকুরিয়াবেড়া, ভাঙ্গাবাড়ী সমেসপুরে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও পথসভা করেন। বিশাল মোটর সাইকেল শোভা যাত্রা বেলকুচি ও এনায়েতপুরের গুরুত্বপূর্ন সড়ক গুলো প্রদক্ষিণ করে। এসময় মীর মোশারফ হোসেনের জন্য সবাইকে দোয়া ও সমর্থন কামনা করে বিভিন্ন শ্লোগান দেয় নেতাকর্মীরা। 
এছাড়া দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আলতাব হোসেনের সভাপতিত্বে দৌলতপুর বাজারে, ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে, ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে জোকনালায় ও রাজাপুর ইউনিয়নের ভারপাপ্ত সভাপতি লালচাঁন প্রামানিকের সভাপতিত্বে দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী মীর মোশারফ হোসেন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। 

সোমবার, ২৩ জুলাই, ২০১৮

সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের ৫টি ইউনিট শাখার কমিটি অনুমোদন

সিরাজগঞ্জে ছাত্রলীগের ৫টি ইউনিট শাখার  স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নতুন কমিটি ১ বছরের জন্য অনুমোদন দিয়েছে নবনির্বাচিত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসান হাবিব খোকা ও সাধারন সম্পাদক আব্দুল্লাহ বিন আহমেদ।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বিন আহমেদ রোববার (২৩ জুলাই) রাতে জানান, ছাত্রলীগের রাজনৈতিক ধারা অব্যাহত রাখতে, সংগঠনকে আরো সুসংগঠিত ও গতিশীল করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিজয় সুঃনিশ্চিত করার লক্ষে জেলার বিভিন্ন ইউনিট শাখার কমিটি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নতুন কমিটির অনুমোদন করা হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের অনুমোদিত ৫টি ইউনিট শাখার মধ্যে সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজ শাখা, সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট শাখা, শাহজাদপুর উপজেলা শাখা, কামারখন্দ উপজেলা শাখা ও হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজ শাখা। 

তিনি আরো জানান, কমিটি গঠনে ক্লিন ইমেজের সৎ ও মেধাবী ছাত্রদের প্রাধান্য দিয়েই নতুনদের নেতৃত্বে আনা হয়েছে। কমিটি গুলোতে যাদের নেতৃত্বে আনা হয়েছে তার হলেন সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজ শাখার সভাপতি পদে মোঃ রাশেদ খান, সাধারণ সম্পাদক পদে সুলতান মাহমুদ মুন্না, সহ-সভাপতি পদে মোঃ রাশিদুজ্জামান নিবিড় ও মোঃ সজিব শেখ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ রেদাওয়ানুল হক সোহাগ ও মোঃ জিবন শেখ। 

সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট শাখার নবনির্বাচিত সভাপতি মোঃ আল-আমিন খান, সাধারন সম্পাদক সাব্বির আহমেদ, সহ-সভাপতি মোঃ জুবায়ের শেখ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রায়হান আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হৃদয় ও মোঃ আরিফুল ইসলাম। শাহজাদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে মোঃ মারুফ হাসান সুনাম ও সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ রাসেল শেখ। কামারখন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে মোঃ পারভেজ রেজা পাভেল, সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ মামুন শেখ, সহ-সভাপতি মোঃ রাকিব সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুল ইসলাম মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোঃ শাদাত শাহরিয়ার শুভ। হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি পদে এনামুল হক বিজয় ও সাধারণ সম্পাদক পদে মাসুদ পারভেজ মুন্না।

মঙ্গলবার, ২২ মে, ২০১৮

অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ স্মরণে কবি কামরুন নাহার সিদ্দিকার অন্তর্ধান

কি এত তাড়া ছিলো ফেরার?
অতটা ছটফটানি কেন ছিল তার
শেষ দেখা হয়েছিল তার সাথে পল্টনের মুখে
সে ছিলো ছুটন্ত রিক্সায়
আমি দেখতে পাইনি,
চোখ ছিল সচিত্র  পত্রিকায়।
 সে দেখেছিলো,হাতের ইশারায় ডাকছিলো আমায়
জনতার শোরগোল অনুসরণে যখন দৃষ্টি ফেরালাম,
ত্রিচক্রযান হাওয়ার বেগে অদৃশ্য হলো গলিপথে
আমি তার পেছন ফেরা হাসি মুখ দেখলাম 
দু দন্ডের তরে,গজদন্তের ঝিলিক 
তারপর মিলিয়ে গেলো। 
মানষ পটে মুখখানি ভেষে উঠে প্রায় ই।
আজ মনে হল দাঁড়াই গিয়ে
  ওই পল্টনের কোণাটায়
হাত নাড়িয়ে তার উচ্ছলতার জবাব দেব
যখনি ত্রিচক্রযান তাকে নিয়ে 
 গলিমুখে হারিয়ে যেতে থাকবে শুধু আর একটি বার। 

বৃহস্পতিবার, ১৭ মে, ২০১৮

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফল উৎক্ষেপন উপলক্ষে জেলা ছাত্রলীগের অানন্দ মিছিল

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ এর সফল উৎক্ষেপণ উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জেলার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ সভাপতি আলহাজ আবু ইউসুফ সূর্যের সভাপতিত্বে নবনির্বাচিত জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লা বিন আহমেদের নেতৃত্বে আনন্দ মিছিলটি জেলার দলীয় কার্যালয় থেকে শহর প্রদিক্ষণ করে। 
মিছিল শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় আবু ইউসুফ সূর্য বলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সাহসী পদক্ষেপ এই স্যাটেলাইট সফল ভাবে উৎক্ষেপন তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে এক যুগান্তকারী মাইল ফলক। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর যেমন ভূ-উপগ্রহ তৈরি করেন, তেমনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সাহসী পদক্ষেপে এই স্যাটেলাইট সফল ভাবে  উৎক্ষেপন বাস্তবায়িত হয়েছে।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লা বিন আহমেদ সমাপনী বক্তব্যে উপস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহণ করায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছা সেবক লীগের নেতা কর্মীদের ধন্যবাদ জানান। এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার পক্ষ থেকে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাতে বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট -১’ সফলভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ হয়। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মার্কিন কোম্পানি স্পেসএক্স-এর সর্বাধুনিক রকেট ফ্যালকন-৯ স্যাটেলাইটটি নিয়ে কক্ষপথের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

মঙ্গলবার, ১৫ মে, ২০১৮

অহেতুক অভিযোগ করা বিএনপির পুরানো অভ্যাস-মোহাম্মদ নাসিম

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামীলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, ১৪  দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, অহেতুক অভিযোগ করা বিএনপির পুরানো অভ্যাস।খুলনায় নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। জনগনের রায় আওয়ামীলীগ মেনে নেবে।
মন্ত্রী মঙ্গলবার (১৫ই মে) দিনভর তাঁর নির্বাচনী এলাকা কাজীপুর ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিদর্শন শেষে বিকালে সিরাজগঞ্জ শহর উপকন্ঠে শিয়ালকোলে নির্মাণাধীন শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও ৫ শ’ শয্যা বিশিস্ট হাসপাতালের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক দিকে মহা আকাশে বাংলাদেশ স্থান করে নিয়েছে, অপর দিকে দেশের তৃণমূলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। নির্মাণাধীন শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

তিনি আরো বলেন দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই। জঙ্গী দমন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ইতিহাসের বিরল ঘটনা। জঙ্গী দমন এবং উন্নয়নের স্বার্থে আবারও শেখ হাসিনাকে ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি আরো বলেন উন্নয়ন এবং ভালবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করে আগামীতেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করবে।
তিনি সকালে কাজীপুরের স্বাধীনতা স্কয়ার নির্মাণ কাজ পরিদর্শন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ঢেকুরিয়া-রতনকান্দি জেসি রোড প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন, ৪ শ’৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বিভাগের বাস্তবায়নাধীন নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। তিনি কাজীপুরে নির্মাণাধীন মেডিকেল এ্যাসিটেন্ট ট্রেনিং স্কুল এফডব্লিউভিটিআই প্রকল্প, ও শেখ হাসিনা নার্সিং কলেজের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। এ সময় মন্ত্রীর সাথে জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দকিা, পুলিশ সুপার  মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ,পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ, গনপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিম, এইচইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সহ সংশিস্ট বিভাগের  উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। 

শুক্রবার, ১১ মে, ২০১৮

শেখ হাসিনার একদিকে মহাকাশ জয় অন্যদিকে তৃণমূলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করছেন- মোহাম্মদ নাসিম

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে একদিকে মহাকাশ জয় অন্যদিকে তৃণমুলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কাজ করা যাচ্ছেন মন্তব্য করে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন নির্বাচনে জনগন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কোন ভুল করবেন না - আন্দোলনের নামে জ্বালাও পোড়াও এবং আগুনে পুড়িয়ে যারা মানুষ হত্যা করে এ দেশের জনগন তাদের ভোট দেবে না। তারা জনগণের ভোট চাওয়ার নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন উল্লেখ করে তিনি আরো বলেছেন- এ নির্বাচনে স্বাধীনতার স্বপক্ষের মুক্তিযুদ্ধের শক্তি রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, নাকি পাকিস্তানের প্রেতাত্বা ঘাতকেরা দেশ শাসন করবে, তা জনগনকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।  তিনি শুক্রবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা বাজার খেলার মাঠে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন।ছোনগাছা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে আ
আয়েজিত এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সহিদুল আলম। বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আবু ইউসুফ সুর্য্য, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক গাজী আমিনুল হক, কাজিপুর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সিরাজী, মিজানুর রহমান দুদু, গোলাম রব্বানী, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রমুখ।  ছোনগাছা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি মোহাম্মদ নাসিমের উপস্থিতিতে পাশ্ববর্তী বাগবাটি, রতনকান্দি ও বহুলী ইউনিয়ন থেকে দলের কয়েক হাজার নেতাকর্মীরা উপস্থিত হলে সম্মেলন স্থল বিশাল জনসভায় রুপ নেয়। সম্মেলন উদ্বোধন করেন মনসুর নগর  থানা আওয়ামীলীগের আহবায়ক আব্দুল লতিফ তারিন।
জনসভায় সরকারের বিভিন্নমুখী উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন  উন্নয়ন এবং ভালবাসা দিয়ে জনগনের কাছে ভোট চাইতে হবে। রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ, মসজিদ মাদ্রাসা সহ অবকাঠামোগত সকল উন্নয়ন জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে।  গ্রামে গ্রামে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে নৌকা মার্কার ভোট চাইতে হবে। নির্বাচনী মাঠে একা খেলতে কোন মজা নেই। প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেই আওয়ামীলীগ ভোটে জিততে চায়, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনে হ্যাট্রিক করতে চায়। 

শেখ হাসিনার একদিকে মহাকাশ জয় অন্যদিকে তৃণমূলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করছেন- মোহাম্মদ নাসিম

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে একদিকে মহাকাশ জয় অন্যদিকে তৃণমুলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কাজ করা যাচ্ছেন মন্তব্য করে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন নির্বাচনে জনগন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কোন ভুল করবেন না - আন্দোলনের নামে জ্বালাও পোড়াও এবং আগুনে পুড়িয়ে যারা মানুষ হত্যা করে এ দেশের জনগন তাদের ভোট দেবে না। তারা জনগণের ভোট চাওয়ার নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন উল্লেখ করে তিনি আরো বলেছেন- এ নির্বাচনে স্বাধীনতার স্বপক্ষের মুক্তিযুদ্ধের শক্তি রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, নাকি পাকিস্তানের প্রেতাত্বা ঘাতকেরা দেশ শাসন করবে, তা জনগনকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।  তিনি শুক্রবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা বাজার খেলার মাঠে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন।ছোনগাছা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে আ
আয়েজিত এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সহিদুল আলম। বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আবু ইউসুফ সুর্য্য, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক গাজী আমিনুল হক, কাজিপুর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সিরাজী, মিজানুর রহমান দুদু, গোলাম রব্বানী, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রমুখ।  ছোনগাছা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি মোহাম্মদ নাসিমের উপস্থিতিতে পাশ্ববর্তী বাগবাটি, রতনকান্দি ও বহুলী ইউনিয়ন থেকে দলের কয়েক হাজার নেতাকর্মীরা উপস্থিত হলে সম্মেলন স্থল বিশাল জনসভায় রুপ নেয়। সম্মেলন উদ্বোধন করেন মনসুর নগর  থানা আওয়ামীলীগের আহবায়ক আব্দুল লতিফ তারিন।
জনসভায় সরকারের বিভিন্নমুখী উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন  উন্নয়ন এবং ভালবাসা দিয়ে জনগনের কাছে ভোট চাইতে হবে। রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ, মসজিদ মাদ্রাসা সহ অবকাঠামোগত সকল উন্নয়ন জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে।  গ্রামে গ্রামে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে নৌকা মার্কার ভোট চাইতে হবে। নির্বাচনী মাঠে একা খেলতে কোন মজা নেই। প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেই আওয়ামীলীগ ভোটে জিততে চায়, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনে হ্যাট্রিক করতে চায়। 

গ্রুপিং বুজিনা আমরা শেখ হাসিনার কর্মী -মীর মোশারফ

ঢাকার বনানী থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী মীর মোশারফ হোসেন বলেছেন, আমরা রাজনীতি করি গ্রুপিং বুজিনা, আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মী। 
তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলছে এবং বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে পরিচিত। বর্তমান সরকার উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। 
তিনি আরও বলেন উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আওয়ামীলীগের বিকল্পনেই। তাই আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কা নিয়ে যেই আসুক নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের কলাগাছী মাদ্রাসা মাঠে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। 
ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে উক্ত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিটিসিএলের সাবেক পরিচারক ও ঢাকাস্থ সিরাজগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি ডঃ আবু ছাইদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য শাহাদৎ হোসেন, ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান আবু সামা, রাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বদর তালুকদার, সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি শাহাদৎ হোসেন মুন্না, জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি রাজু আহাম্মেদ, উপজেলা যুবলীগ নেতা রাজিব আহাম্মেদ, ওয়ার্ড নেতা আলম শেখ প্রমুখ। 

বৃহস্পতিবার, ১০ মে, ২০১৮

বঙ্গবন্ধু কন্যা একদিকে মহাকাশ জয় অন্যদিকে প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নে করে চলেছেন- নাসিম 

আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম, ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বুধবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর আদর্শ একাডেমি মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের ‘বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ৬টি আদি পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের ‘অন দ্যা জব  প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃেত্ব একদিকে মহাকাশ জয়ের কাজ করছে, অন্যদিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করে কাছ করছেন। শেখ হাসিনা দেশ ও জনগণকে আলোকিত করেছেন। জঙ্গীবাদ দমন করে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। 

তিনি এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য আরো বলেন, এ নির্বাচনে  ভোট প্রয়োগে ভুল হলে  দেশে আবারও জঙ্গীবাদের উত্থান হবে, হাওয়া ভবন পুণ প্রতিষ্টা হবে, আলোকিত দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। বিএনপিকে নির্বাচনে আসার আহবান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আইনী প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে তাকে সাথে নিয়েই আপনারা নির্বাচনে আসুন। খেলা হবে নির্বাচনী মাঠে। জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে, কারা ক্ষমতায় আসবে। মাঠ ছেড়ে বিএনপিকে না পালানোর আহবাস জানিয়ে নাসিম বলেছেন- আওয়ামীলীগ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আমরা নির্বাচন দেখে ভয় পাই না। 

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সমাজ কল্যান মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন  প্রকল্পের উদ্বোধন করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সকল ক্ষেত্রেই উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। আর এই উন্নয়নের মুল স্রোতের সাথে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে। এরই অংশ হিসেবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন-মান উন্নয়নের এমন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের ৮টি জেলায় একযোগে প্রথমবারের মতো এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। 

জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবু মো. ইউসুফ, এটুআই প্রকল্পের পরামর্শক ফিরোজ আলম, প্রকল্প পরিচালক কামরুজ্জামান, সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান, কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বকুল ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সিরাজী। 

মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৮

কাজীপুরে যমুনার ভাঙ্গনের শব্দ আর শোনা যাবে না-স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম

কাজীপুরে আর কোন দিন যমুনার ভাঙ্গনের শব্দ শোনা যাবে না মন্তব্য করে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আওয়ামীলীগ সরকার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চিত কাজীপুর – সিরাজগঞ্জসহ সারা দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছে। এই উন্নযনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় চলতি বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে নৌকা  মার্কায় ভোট দেবার আহবান জানান। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম রবিবার সকালে কাজীপুরে জমির ক্ষতিপুরণ বাবদ এক কোটি টাকার চেক বিতরণ করেছেন। কাজীপুর উপজেলার মাইজবাড়ি ইউনিয়নের ছালাভরা এলাকায় নির্মানাধীণ পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (এফডব্লিউভিটিআই) নির্মাণ কাজে জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এই জমির ক্ষতিপুরণ বাবদ ৩০ জন জমির মালিককে ক্ষতিপুরণ হিসেবে এই চেক বিতরণ করা হয়। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।  এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী এলাকা কাজীপুরের বিভিন্নমুখী উন্নয়ন কর্মকান্ডের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন- প্রায় এক হাজার কোটি টাকা খরচ করে প্রমত্তা যমুনা শাসন করা হচ্ছে।

চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ, কাজীপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম বক্তব্য দেন। 

সোমবার, ২ এপ্রিল, ২০১৮

প্রয়োজন নদী সংরক্ষণ এবং সুষম উন্নয়ন (এক)

লেখক ও গবেষকঃ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান খান
নদীর সাথে সম্পৃক্ততা আমার অনেক দিনের কিন্তু নদী বিষয়ে লেখা লেখি অনেক কম। কৈশোরে স্বভাবসুলভ ডানপিটে চঞ্চলতা নদীকেই ঘিরে। এই দুষ্টুমিতে মদদ জুগিয়েছে শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত আর মার্ক টোয়েনের টম সয়ার। সাঁতার কাটা, মাছ ধরা, নাও বাওয়া সবই ছিল নদী কেন্দ্রিক। বর্ষায় নৌ পথে কুটুম বাড়ি ভ্রমণ ছিল অত্যাবশ্যকীয় কাজ। যৌবনে নদী প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য গবেষণাকল্পে নদীর সাথে পুনর্যোগাযোগ। উল্লেখ্যযোগ্য গবেষণাগুলো যেমন:

নাফ নদী ও সেইন্টমার্টিন্স দ্বীপ জীব বৈচিত্র্য অধ্যায়ন- ১৯৮৪। রাজশাহী পদ্মায় মরিয়াল প্রজনন গবেষণা- ১৯৮৬
মিঠাপানির কাছিম ও সোনগুই জরীপ- ১৯৮৯ এশিয়া পরিযায়ী জলচর পক্ষী সূমারী প্রধান নদীও উপকূল এবং হাওড় অঞ্চল- ১৯৯০-২০০০। হাওড় অঞ্চল জীব বৈচিত্র্য গবেষণা- ১৯৯১ ফ্লাড একশান প্ল্যান-৬ এবং ন্যাশনাল কনজারভেশন স্ট্র্যাটেজি। পার্বত্য এলাকার নদী জীববৈচিত্র্য গবেষণা- ২০০৩। ঘড়িয়াল জরিপ, পদ্মা, যমুনা, তিস্তা- ২০১০। গাঙ্গেয় শুশুক জরীপ সকল নদ-নদী যথাক্রমে ১৯৯১ এবং ২০১০। পদ্মাসেতু সন্নিবেশিত পদ্মা এবং আড়িয়াল খাঁ নদীর জীববৈচিত্র্য অধ্যায়ন- ২০১৫
ভৈরব থেকে সন্দীপ এবং বরিশালের নদীর জীববৈচিত্র্য অধ্যায়ন- ২০১৬।

এছাড়াও নদ-নদী, হাওড়-বাওড়, হ্রদের জীববৈচিত্র্য ভিডিও চিত্র ধারণ, প্রকৃতি ও জীবন এবং প্রাণ প্রকৃতি অনুষ্ঠান যথাক্রমে চ্যানেল আই ও একাত্তর টেলিভিশনের জন্য।

বর্তমানে 'নদী ও জীবনের সন্ধানে' প্রকল্পের সাথে যুক্ত। এ সকল প্রকল্প গবেষণা কাজের ফলাফল প্রধানতঃ বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা ও প্রতিবেদন হিসেবে প্রকাশিত। যতদূর মনে পড়ে নদী বিষয়ক ছয় সাতটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে সহজ পাঠ্য হিসেবে।
উল্লেখযোগ্য হলো:
নাফ নদীর প্যারাইল্লাবান্দর সমাচার- আহমদ ছফা সম্পাদিত, চট্টগ্রাম বার্তা। হাওড় প্রাণবিচিত্রা: টাঙ্গুয়ার হাওড়- ফরহাদ মজাহার সম্পদিত, উবিনীগ সংকলন।
নদী জীববৈচিত্র্য- মিজানুর রহমান সম্পাদিত, মিজানুর রহমানের ত্রৈমাসিক পত্রিকা। ইছামতী নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এক সাফল্য গাঁথা, রাশেদা. কে. চৌধুরী সম্পাদিত পরিবেশ কতকথা, গণ সাক্ষরতা অভিযান। Floodplain Ecology of Northeaster Region of Bangladesh.  
চুসাফাও, ড:ইউসুফ আলী সম্পাদিত Floodplain Ecology, BCAS of Bangladesh. Our River Heritage সম্পাদিত, জলপ্লাবিত, ভারত।

যখন নদীতে ভাসি তখন অনেক বিষয়ই লেখার অনুপ্রেরণা আসে। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। নদী ছেড়ে নগরে এলেই আর লেখা হয় না। তাই নদীর এত গল্প মাথায় জমে আছে যা আজও প্রকাশ করা হয়নি। তবে স্নেহাস্পদ মনির হোসেন নদী পরিব্রাজক দলের সভাপতি এবং নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতারা নাছোড় বান্দা। নদী প্রেমিক ও নদী সংরক্ষণের একনিষ্ঠ কর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ও অনুপ্রেরণা জোগাতে এই আঁকিজুকি। আমার ঈশ্বরের চারণ ভূমি মানিকগঞ্জের নদী গল্প দিয়েই শুরু।

এদেশের শতাধিক নদীর খণ্ডচিত্র মানিকগঞ্জ নদীর গল্পগাঁথা। এ থেকেই অনুমেয় অপরাপর নদীর গীতগাঁথা। আতুরঘর নদী মোদের, মোরা বড্ডই অকৃতজ্ঞ, পিছন ফিরে থাকি। সময় এখন ঋণ শুধাবার। মুখ ফেরানো সমুখে নদীর। বুনো নদী বন্যতায় ভাসুক নদীতীর হাসুক আবার ফুলে ফলে প্রজাপ্রতির রংধনু ডানায়।

আমার শৈশব, কৈশোর ও যৌবনকাল নদ-নদীকে ঘিরে আবর্ত। দেশের বাড়ি যথাক্রমে বালিয়া, ধামরাই উপজেলা ওদাশড়া, মানিকগঞ্জ। ধলেশ্বরী নদী তীরে বালিয়া গ্রাম। মানিকগঞ্জ কালীগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর প্লাবন ভূমি বদ্বীপ। খরস্রোতা, স্রোতস্বিনী নদী দুটো আজ মৃত প্রায়। বর্ষায় ক্ষীণ জলধারা থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে ধুধু বালু চর। এক সময় বহতা খরস্রোতা নদী ছিল তার সাক্ষী হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে কালিগঙ্গা ও ধলেশ্বরী সেতু মানিকগঞ্জের দক্ষিণ ও উত্তরে।

প্রাকৃতিকভাবে মানিকগঞ্জ পদ্মা-যমুনা-ইছামতির আশির্বাদ পুষ্ট উর্বর প্লাবন ভূমি প্রতিবেশ ব্যবস্থা। বাংলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আতুর ঘর। নৌবন্দর হিসেবে খ্যাত মানিকগঞ্জ পুরোটাই ছোট, বড় অনেক নদী-নালা, খাল-বিল দ্বারা আবৃত। দুয়েকটি প্রধান সড়ক বাদে বাকি সবখানে নৌকাই একমাত্র যোগাযোগ বাহন। তাইতো এই এলাকায় নানান বৈচিত্র্যময় নৌকার গড়ন, গঠন, আকার, আকৃতি লক্ষণীয়। এক মাল্লা, দুই মাল্লা, গয়না, পানসী, ছিপ, ডিংগী, ডোংগা, কোষা ও হরেক রকম নাওয়ের সমাহার। এগাঁও ওগাঁও ভ্রমণের জন্য প্রায় প্রতিটি বাড়িতে ডিংগি বা কোষা নৌকা বাঁধা থাকতো ঘাটে। এ বাড়ি ও বাড়ি আর পাড়া বেড়ানোর প্রধান বাহন মাটির চাড় এবং কলা গাছের ভেলা। বর্ষায় রথ যাত্রার সময় অনেক বড় আয়োজনে নৌকা বাইচ হতো মানিকগঞ্জ শহরের মাঝি দিয়ে বয়ে যাওয়া খালে।

শহরের মাঝ খাল থেকেই লঞ্চ ছাড়তো ডাকার উদ্দেশ্যে। বেতুলীয়া দিয়ে কালিগঙ্গার শাখা বেয়ে ধলেশ্বরীতে মিলে, সিঙ্গাইর পার হয়ে সাভার সেতুর নিচ দিয়ে হেমায়েতপুর ঘেঁষে। আশুলিয়া বিল পাড়ি দিয়ে আমীন বাজারের কাছে তুরাগ নদীতে পড়তো। মিরপুর ব্রিজ পার হয়ে বুড়িগঙ্গায় সদরঘাটে যাত্রা শেষ হত। এই যাত্রা পথে সাভার বাজারে ফেরীওয়ালা বালতি ভরা রসগোল্লা বিক্রি করতো। লঞ্চের উপরে ছোট কেবিন, বেলকনী, চিমনি ও নামাজের স্থান। নিচ তলায় কাঠের বেঞ্চ, যাত্রী আসন, ইঞ্জিন রুম এবং মহিলা কেবিন। পেছনে দেড় তলায় রান্না ঘর, টয়লেট এবং টি স্টল। লাঠি টোস্ট বিস্কুট, চা, পান এবং বিড়ি প্রধান পণ্য। লঞ্চের ক্যাপ্টেন সুখানী, ইঞ্জিন চালক, টিকিট মাস্টার এবং নৌ শ্রমিক মিলে লঞ্চের ব্যবস্থাপনা।

ভ্রমণ তখন অনেক আনন্দদায়ক ছিল, মহিলারা পানের বাটা খুলে গল্পে মাততো। শিশুরা পুরো লঞ্চেই ছুটাছুটি, লুকোচুরী খেলায় ব্যস্ত। লেছ ফিতা, আলতা, রেশমী চুড়িওয়ালা তার কাচের ভাসমান দোকান প্রদর্শন ও বিক্রয় করতো। লঞ্চের ছাদে চটের ছালা ও বাঁশের খাঁচায় ভরা পনির, মাছ, পান, মুরগি, হাঁস এবং ডিম এই রকম নানান কাঁচামাল ভরা থাকতো।

বিশ পঁচিশ স্টপেজ করে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করা লঞ্চ বহর সম্পূর্ণই কাঠের তৈরী এবং দোতলা একই আদলের যা সমগ্র ভারতবর্ষেই নৌ পরিবহন হিসাবে ব্যবহৃত হত। এছাড়াও মানিকগঞ্জ বেউথা বন্দর কালিগঙ্গা হতে স্টিমার যেতো ঢাকায়। ঐ জাহাজগুলো দোতালা এবং কয়লা চালিত। প্রতি রাতে ছেড়ে ভোর বেলা ঢাকার সদরঘাট নৌবন্দরে পৌঁছাতো। স্টিমার ভ্রমণ ছিল খুব নিরাপদ এবং আনন্দদায়ক। রাতে চাদর, কাঁথামুড়িতে এক ঘুমে ঢাকা পৌঁছানো। স্টিমার পরিবেশিত খাবার ছিল খুব সুস্বাদু এবং সুলভ। ইলিশ ঝোল, কাঁচকি মাছের চচ্চরি, বেগুন ভাজি এবং ডাল। বোম্বে টোস্ট, লুচি-মিষ্টি, ডিম-রুটি নাস্তা হিসেবে বেশ মুখরোচক। যাত্রী বহনের পাশাপাশি স্টিমার ব্যাপক কাঁচামাল বহন করতো- যার মধ্যে পনির, দুধ, দই, গুড়, মাছ, হাঁস-মুরগি, ডিম এবং শাক-সব্জি প্রধান। কালিগঙ্গা বেয়ে বালির ট্যাংক পেরিয়ে ধলেশ্বরী ও ইছামতি হয়ে মুন্সিগঞ্জে ধলেশ্বরী-শীতলক্ষ্যা মোহনা পাড়ি দিয়ে বুড়িগঙ্গায় পৌঁছাতো ভোর বেলা। তখন নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকার সড়ক বাতির হলদে মালা এক অপরূপ মায়াপুরির মতন লাগতো।

মানিকগঞ্জ আরিচা ঘাট হতেও স্টিমার চলাচল করত গোয়ালন্দ পর্যন্ত। সেখান হতে ট্রেনে চেপে বেনাপোল হয়ে কোলকাতা। মানিকগঞ্জ এবং পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর ও পাবনা জেলা যা পদ্মার এপার ওপারে অবস্থিত ঐতিহাসিকভাবে পাট উৎপাদন ও বিতরণের জন্য বিখ্যাত ছিল। পদ্মা-যমুনা, ইছামতি, আড়িয়ালখাঁ ও ধলেশ্বরী নদীভিত্তিক পাট পরিবহন ও বাজারজাতকরণ ছিল এক বিশাল কর্মযজ্ঞ এবং বাণিজ্য। পাট আঁশ পরিবহন চলতো দ্বি-মুখী।

এক: প্রাচ্যের ড্যান্ডি হিসেবে খ্যাত নারায়ণগঞ্জ, দুই: কলকাতা- এই দুই স্থানেই গড়ে উঠেছিল সকল বড় পাটকল/কারখানাগুলো।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর-শিবালয় এবং ফরিদপুর পাংশা সন্নিবেশিত পদ্মায় পাঙ্গাস-আইর মাছের অভয়াশ্রম ছিল। টন হিসাবে পাঙ্গাস ধরা হতো নদীর কুমগুলোতে। নদীর প্রাকৃতিক পাঙ্গাস ১০-৪০ কিলোগ্রাম ওজনের এবং বিশালাকৃতির হতো। পাটুরিয়া এবং বাহাদুরপুর এলাকায় ইলিশ মাছের প্রাচুর্য এবং পর্যাপ্ততা ছিল ব্যাপকাকারে। আরিচার জাফরগঞ্জ হতে শিবচরের আড়িয়ালখাঁর মুখ পর্যন্ত পদ্মারচর সমূহে বিচরণ করতো হাজারো জলচর পরিযায়ি পাখি। শীতের ভোরে চরবাসীদের ঘুম ভাঙতো পাখির কলরব এবং ডানা ঝাপটার শব্দে। চরের বালুতে রোদ পোহানোর জন্য বসে যেতো গঙ্গা কাছিম আর ঘড়িয়াল। অসংখ্য গাঙ্গেয় শুশুক সহজলভ্য ছিল মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ লৌহজং এর মাঝে বয়ে যাওয়া পদ্মায়। কিন্তু গত ২০১৫-২০১৬ সময়ে পদ্মা নদীর মুন্সিগঞ্জ, শরিয়তপুর, মাদারিপুর এবং মানিকগঞ্জ, হরিরামপুর, শিবালয় সন্নিবেশিত পদ্মায় জীববৈচিত্র্য জরিপকালে জানা যায় যে বিগত ৫ দশকে কিছু প্রাকৃতিক পরিবর্তন লক্ষণীয়-
১। পদ্মার গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে ব্যাপকাকারে
২। জলের হিজল বন বিলুপ্ত প্রায়, হাসাইল এলাকায় ছিটে ফোঁটা লক্ষ করা যায়
৩। নদীর নাব্যতা হানি হয়েছে ৭০ শতাংশ
৪। পরিযায়ী জলচর পাখির উড়াল পথ বজায় আছে তবে পাখির সংখ্যা কমেছে ৬০ শতাংশ
৫। নল খাগড়া ও শন বন জীববৈচিত্র্য পুনরুত্থান লক্ষণীয়
৬। স্থানীয়ভাবে বিলুপ্ত হয়েছে ঘড়িয়াল ও পিপলা শোল মাছ
৭। পাঙ্গাস-আইর মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হয়েছে ব্যাপক আকারে
৮। প্রজাপতি, মথ, ঝিনুক, শামুক, প্রজাতি প্রাপ্ততা স্বাভাবিক রয়েছে।
৯। নদী বা তীর ভাঙন প্রবণতা প্রকট। আরিচা, পাটুরিয়া, হরিরামপুর, ভাগ্যকুল ও লৌহজং এলাকার অনেক গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।
১০। মৎস্য উৎপাদন কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ।
১১। ইলিশের পরিযায়ন পথ সঙ্কুচিত হয়েছে এবং গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে।
১২। রবি শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এবং মৌচাকের আধিক্য লক্ষণীয়।
১৩। শীত মৌসুমে ক্ষীণ জলধারা আর বিস্তীর্ণ বালুর চর।

মানিকগঞ্জের নদী-খাল-বিলের অবস্থার বর্ণনা থেকে এটি অনুমেয় যে গত ৪-৫ দশকে এদেশের নদ-নদীর প্রভূত ক্ষতি সাধন হয়েছে। যার একটি কারণ প্রাকৃতিক পরিবর্তন অপরটি মানব সৃষ্ট। বাংলাদেশে বহমান প্রধান নদী সমূহের উৎস মুখে জলবিদ্যুত প্রকল্পের জন্য ব্যারাজ নির্মাণ (অর্ধশতাধিক) এবং রেলসেতু নির্মাণকালে নদী শাসন মূলত ভাটির দেশের নদীর প্রাকৃতিক জল প্রবাহে প্রথম খড়্গ। মরহুম জননেতা এবং প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ মওলানা ভাসানী বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে ঐতিহাসিক ফারাক্কা মার্চ করেন। যা ছিল জল সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিকী প্রতিবাদ।

দেশাভ্যন্তরে শুরু হলো সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়ন। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক এই অঞ্চলের নদী ও এর প্লাবন ভূমি, জলাভূমির উভয়মূখী জল প্রবাহ ও জলসঞ্চালনের প্রথম প্রতিবন্ধকতা। শুরু হলো আইয়ুব খান, তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসকের 'নয়া সড়ক' ও 'সবুজ বিপ্লব' প্রকল্প। একদার নৌ-প্রধান যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা রূপান্তরিত হলো সড়ক যোগাযোগ। সারা দেশে নদী হারালো তার প্লাবন ভূমি। জলাভূমির সাথে বর্ষাকালীন সংযোগ প্রতিটি সড়ক এক একটি বাঁধজলাভূমি ও নদী প্রবাহের মাঝে। নদী ও জলাভূমির মাঝে পরিযায়ী, প্রাণী ও উদ্ভিদ কূলের স্থানীয় migration পথ হলো রুদ্ধ। তার বেলাও কাপ্তাই সহ ৬ ডজন খানেক (Dam) তৈরী হলো প্রধান নদী সমূহের গতি পথ বন্ধ করে জলবিদ্যুত প্রকল্প।কাপ্তাই উৎস জলাবদ্ধতার জন্য কর্ণফুলী নদীর সকল উপত্যকা এবং প্লাবন ভূমি স্থায়ীভাবে কৃত্রিম হ্রদে পরিণত হলো। হাজারো পাহাড়ি জনগোষ্ঠি হারালো তাদের উবর্রকৃষি ও মৎস্যভূমি। আপন ভূমি হতে মূলোৎপাটিত হয়ে পরিণত হলো পরিবেশগত শরণার্থীতে (Environment Refugee) উপত্যকার সকল জনগোষ্ঠি বসতি গাড়লো নিকটবর্তী পর্বতশৃঙ্গে। শুরু হলো প্রাকৃতিক চিরহরিৎ বন বিনাশ ধ্বংসযজ্ঞ। ক্রমান্বয়ে নাঙা হতে থাকলো পাহাড় শ্রেণী। শুরু হলো জীববৈচিত্র্যের স্থানীয় বিলুপ্তি। শুরু হল পাহাড়ধস আর বান ভাসি। পাহাড়ি নদীসমূহ হারালো তার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ।

মানব বসতি, বিকাশ, বিস্তার ও উত্তরণ বিষয়ে বিশেষত: নদীমাতৃক ও প্লাবন ভূমি এলাকার সভ্যতা নিয়ে আমার নিজস্ব ভাবনা ও বিশ্লেষণ আছে। ভাটির দেশ বাংলাদেশ। উত্তরে সুউচ্চ পর্বতমালা, উপত্যকা ও নদী প্রবাহের আধার সাগরের মাঝে অবস্থিত আমাদের দেশের প্রধান ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য হলো বদ্বীপ বা চর। আর এই চরের বাসিন্দা 'চইরা'। চর খুবই ভঙ্গুর প্রতিবেশ ব্যবস্থা এবং ক্ষণস্থায়ী। নদ-নদীর ভাঙ্গা গড়ার সাথে চর উৎপত্তি ও বিনাশ। পৃথিবীর প্রাচীন এলাকার মতন স্থায়ী ভূ-প্রকৃতি যেমন কঠিন শিলা বা খনিজ সমৃদ্ধ পাথুরে পর্বত বা সমতল ভূমি নয় আমাদের এই ভূ-খন্ড।

Geological Time Scale অনুযায়ী- পৃথিবীর ইতিহাসে ঘটিত নানান ঘটনা এবং রূপান্তর ও বিবর্তন জানার একটি পদ্ধতি এই মাপকাঠি ও মানদণ্ড যা বর্ণনা করে বিশ্বব্রহ্মান্ডের ভৌগলিক, ভূ-তাত্ত্বিক ও তাতীর মন্ডলীয় বিজ্ঞানকে। এই মাপকাঠির মাইলফলকগুলো এই রূপ: সুপার ইয়ন, ইযন, এরা, পিরিয়ড, ইপক এবং এজোজ। এগুলোকে তিনটি এককে বর্ণনা করা হয় আরলি, মিড এবং লেট সময়কাল বিবেচনায় আর শিলা বিস্তার বিবেচনায় ধরা হয় লওয়ার, মিডিল এবং আপার এই শ্রেণীতে।

প্রাণের উৎপত্তি ও বিবর্তনে ব্যবহার করা যায় সেনোজোইক, মেসোজোইক, প্যালিও জোইক এবং প্রি-ক্যাম্বিয়ান মাপকাঠিতে। মাপকাঠির সময় দূরত্ব/ব্যবধানগুলো ইত্তম-অর্ধবিলিয়ন বর্ষাধিক, এরা-কয়েক শতক মিলিয়নবর্ষ, ইপোক- দশ মিলিয়ন বর্ষ এবং এজ হলো- মিলিয়নবর্ষ। এন্ট্রোপসেপিক বর্তমান ইপোককে ধরা হয় যে সময়ে আমরা অবস্থান করছি।

হিমালয় উত্থান এবং নদীর উৎপত্তি, প্রবাহ, শ্রোতধারার গতিপথ পরিবর্তন সূক্ষ্মভাবে গবেষণা করে নদী ভিত্তিক নৃ-তাত্ত্বিক বিবর্তন জানার গবেষণা প্রয়োজন, গন্ডোওয়ালা ল্যান্ড বিচ্যুতি ও হিমালয় সূষ্টির পূর্বে এই ভূ-খন্ডে নদীর উৎস ও বিস্তার আতলন্তেই রয়ে গেছে। তৎকালীন নদী প্রবাহ হয় তার সাগর উৎসাধিত এবং উত্তরমুখি। সেই বিবেচনায় বাংলা বদ্বীপ অধুনা সৃষ্ট এবং ক্রম বিকাশমান ভূ-ভাগ। ভাঙা-গড়ায় অস্থিতিশীল এক অবস্থানে অবস্থিত এই বদ্বীপ।

গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা প্রায় ১২৫ মিলিয়ন বর্ষ পূর্বে সৃষ্ট যখন গন্ডোওয়ালা ল্যান্ড অস্ট্রেলীয়া হতে বিচ্যুত হয়ে বার্মা ও ইউরেশীয় প্লেটের সাথে ভারতীয় প্লেটের সংঘর্ষ হলো ৪ হাজার বর্ষ পূর্বে। তখন সুষ্ঠু হিমালয় পর্বতমালায় উৎসারিত হলো গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র। ভূ-তাত্ত্বিক বিবর্তন এবং জলজ প্রবাহ প্রণালী বিশ্লেষণের সাথে সংযুক্ত করা প্রয়োজন প্রাণীকূল বিশেষত মানব সমাজের বিকাশ ও বিস্তারকে। যেমন- এই বদ্বীপে বসবাসরত নদীভিত্তিক জনগোষ্ঠির জীবন প্রণালী।

কৈবর্ত্য: নদী ও জলাভূমি জীবনযাত্রা, প্রণালী, নৌযান এবং জল-ফাঁদ গঠন, গড়ন প্রকৃতি। মালো: জলজ জীবন যাপন ও ভোদড় ব্যবহারে মাছ শিকার। রাজবংশী: হরেক রকমের জাল ও মাছ রাখার আধার, পাত্র গড়ন কৌশল। কুমার: কুমার মাটি ও মৃৎশিল্প চইরা: খড়-কোটা, পাটকাঠি,বাঁশ-বেতের গৃহনির্মাণ কৌশল। মাঝি: হরেক রকম নাও নির্মাণ ও চালানো কৌশল। বেদে: নদীতে ভাসমান জীবনপ্রণালী ও কলাকৌশল। জলমহল, হিজলমহাল, বালুমহাল, গরুবালা ইত্যাদি নদী ও জলাভূমি সম্পদ ব্যবস্থাপনা পদ্বতি। জারি-সারি,ঘাটু,ভাটিয়ালি,পল্লী সংগীতের উৎস, তাল, লয়, সুর, বিষয় প্রণালী যাত্রা, কবিগান, পালাগান উৎপত্তি ও নদ-নদীর সাথে সম্পৃক্ততা

উপরোল্লিখিত চলমান উপাদানসমূহ গবেষণা ও বিশ্লেষণ করে এতদঅঞ্চলের মানুষ ও সমাজ বিষয়ক ঐতিহাসিক তথ্যসংগ্রহ করা প্রয়োজন। রেডিও মেট্রিক ড্যটিং অনুযায়ী পৃথিবীর উৎপত্তি ৪,৫৭০ বিলীয়ন বছর পূর্বে আর (৪৫০ কোটি) নদী সৃষ্টি হয় প্রায় ৩০০ কোটি বছর পূর্বে। এই ভূখন্ডে নদীর উৎপত্তি দ্বিমুখী: এক- পর্বত শৃঙ্গ, দুই- সাগর।
এতদঅঞ্চলের নদ-নদীর উৎপত্তি নিয়ে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ছাড়াও রয়েছে-নানান রকমের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উপাখ্যান। ভারতীয় শাস্ত্রে পূজিতা নদী গঙ্গাকে নিয়ে রয়েছে অনেক উপাখ্যান। যেখানে নদীকে স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল ত্রিভুবনের সাথে যুক্ত করে গঙ্গা দেবীর রহস্যময়ী ঘটনাবলি চিত্রায়িত আছে। যেখানে পাত্র পাত্রী হিসাবে উল্লেখ আছে সাগর রাজা, সুমতি রানী, কপিল মুনি, ভগীরথ, শিব, সীতা, নলিনী, সুচক্ষু, ভগীরথী। জহ্নুগঙ্গাকে বর্ণনা করা হয়েছে হিমালয়ের কন্যা, কখনো শিবের স্ত্রী, কখনো জাহ্নবীর ভালবাসার কাঙ্গাল, আবার কখনো বা শ্রী কৃষ্ণের প্রণয় প্রার্থিনী।

প্রবন্ধকার তপন কুমার দাস ২০০৫ সালে উল্লেখ করেছেন যে এই রূপ জন্মকথা রচিত হয়েছে স্বরস্বতী, ব্রহ্মপুত্র, নর্মদা নদীকে ঘিরে। মহাভারতে রয়েছে নদীর ছড়াছড়ি। যেমন: তমশা, কৌশিকি, শুভদ্রা, কাঞ্চনাক্ষি এবং পদ্মাবতী ইত্যাদি। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন নদ ও নদীর বিভাজন তৈরী হয়েছে প্রাচীন গ্রন্থসমূহে। পুরুষ দেবতার মাধ্যমে জন্ম নেয়া স্রোতধারাকে নদ আর নারীর নামে কিংবা নারীর দ্বারা সৃষ্ট স্রোতধারাকে নদী বলা হয়েছে। যেমন: নীলনদ, একিসনদ, ব্রহ্মপুত্র নদ, কপোতাক্ষ নদ, মিসিপিপি নদ।

গঙ্গানদী, গোমতী, মধুমতি, কাবেরী, ইছামতি, ধানসিঁড়ি, ধলেশ্বরী নদী, পদ্মা নদী, যমুনা নদী বদ্বীপ অঞ্চলের পুরাকীর্তি অনেকাংশেই নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। বরেন্দ্রভূমি এবং উঁচুটিলা এবং পার্বত্য এলাকায় কিছু পুরাকীর্তি অক্ষুণ্ণ আছে। এছাড়া অধুনা ইতিহাসের কিছু স্থাপনা ও ভাষ্কর্য রয়েছে সমতটে। আমাদের ইতিহাসবিদগণ মূলত: ঐ সকল পুরাকীর্তি, স্থাপনা ও ভাষ্কর্য ইতিহাস বিশ্লেষণের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করছেন। কিন্তু এতদ অঞ্চলের মানুষের জীবন-যাত্রা ও প্রণালীর মাঝে নিহিত সাংস্কৃতিক, নৃ-তাত্ত্বিক ও ধর্মীয় উপাদানসমূহ তেমন একটা গুরুত্ব পায়নি ইতিহাস রচনায়। এই ইতিহাস রচনায় সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে রাজনৈতিক উত্থান-পতন এবং রাজ-রাজাদের শাসন, শোষণ ও প্রতাপের। ইতিহাস রচনায় প্রাকৃতিক ইতিহাস (Natural History) একেবারেই অগ্রাহ্য করা হয়েছে।

ভৌগলিক, ভূ-তাত্ত্বিক, জীবভূ-বিজ্ঞান, জলবিজ্ঞান এবং জীববৈচিত্র্যের উৎপত্তি, অভিযোজন, বিস্তার, বিকাশ ও বিনাশের প্রাকৃতিক বিবর্তন বিষয়ক সূক্ষ্ম উপাদানসমূহ বিশ্লেষণের দাবি রাখে বদ্বীপ অঞ্চলের সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাস জানার জন্য। নদী ও নদীর সম্পদ ব্যবহার চলছে অবিরাম। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ব্যবহার অমিতব্যয়ী এবং অপরিণামদর্শী। নদী ব্যবস্থাপনায় একপেশে দৃষ্টি নদী সুরক্ষার একটি অন্তরায়। কেহ নদীর ভূ-উপরিস্থিত জল উত্তোলন এবং ফসলে সেচ প্রদান এই লক্ষে নদী ব্যবস্থাপনাকে দেখে। আবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও বাঁধ-ভাঙা রোধ এই আঙ্গিকে কাজ করে অনেকে।

নদী খনন ও নৌ চলাচল নাব্যতা বজায় রাখতে অনেকে ব্যস্ত। মাছ আহরণ ও মাছপ্রজনন এবং পরিযায়ন বিষয়ে কেহ কাজ করেন। নদী দূষণ এবং প্রতিকার নিয়েও কর্মদ্যোতা রয়েছে। নৌ-পরিবহন ও নৌ-পরিভ্রমণও একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মকান্ড নদীকে ঘিরে। বালু মহাল, জলমহাল, জলজ সম্পদ আহরণ বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

নদী এমন একটি জীবন্ত এবং বহমান প্রতিবেশ ব্যবস্থা যা সংরক্ষণে বহু জ্ঞান-শৃঙ্খলা ও বহুমুখী কর্মযজ্ঞ সু-সমন্বিত কর্মযোগের দাবী রাখে। সার্বিক সমন্বয়, পারস্পরিক জ্ঞান আদান-প্রদান ভিত্তিক সূদুরপ্রসারী বৈজ্ঞানিক স্বমন্বিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়ন একান্ত প্রয়োজন। বাংলাদেশের নদ-নদীর ব্যবস্থাপনার একপেশে নীতি পরিহার করা অতীব জরুরী। আমরা মোটা দাগে আমাদের নদ-নদীর প্রধান সমস্যাগুলো কম বেশি জানি। এই চিহ্নিত সমস্যা সমাধানকল্পে আমাদের পরিকল্পনা, আইন এবং সংগঠন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই নদী-সুরক্ষার পরিকল্পনা যথাযথ বাস্তবায়ন হয়নি। সাংগঠনিক দক্ষতাও যুগোপযোগী নয়। চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে কিছু কর্মোদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। 
যেমন:
১. নদী ও জলাভূমি সংরক্ষণ ও সুষম উন্নয়ন বিভাগ যা আন্ত:বিভাগীয় নীতির সমন্বয়, উন্নত গবেষণা, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তদারকি ও মূল্যায়ন করবে।
২. আন্তর্জাতিক নদী ও জল প্রবাহ ও আঞ্চলিক নদী ব্যবস্থাপনা সনদ, চুক্তি, প্রকল্প বাস্তবায়নে জাতীয় কর্মকৌশল ও কূটনীতি চৌকস করা।
৩. নদী ও জলাভূমি বিষয়ক জাতীয় নীতিমালা যা NCS, NEMAP, NBSAP, BCCSAP সহ অন্যান্য কর্মপরিকল্পনায় লক্ষ নির্ধারিত আছে তা বাস্তবায়ন।
৪. আন্তর্জাতিক সনদ যেমন CBD, CMS, Ramsar - বাংলাদেশ যার অনুস্বাক্ষরকারী, অংশীদারি দেশ তার সকল বিধিবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন।
৫. SDG লক্ষ্যমাত্রা যা নদী সাগর ও জলাভূমি কেন্দ্রিক তা জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের কৌশলপত্র এবং লক্ষ্যমাত্র, কর্মসূচী, সময়সূচী নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়ন।
৬. Transboundary river Management regional & Bilatenal Protocol লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়ন।
৭. Polluters to Pay এই আইনের ভিত্তিতে শিল্প কর্তৃক দূষণ রোধে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন যথাযথ বাস্তবায়ন।
৮. পরিবেশ ও নদী দূষণকারী শিল্পের পণ্য বর্জন আন্দোলন।
৯. বে-আইনিভাবে বালু উত্তোলন রোধ করুন।
১০. নদী তীর সীমানা নিরূপণ এবং নূন্যতম ২০০ মি. নদী তীর জলার বনায়নের আওতায় আনা।
১১. নৌ-পরিবহন যান কর্তৃক সকল দূষণ নিয়ন্ত্রণ।
১২. নদীতীরে অপরিকল্পিত এবং প্রকৃতি বৈরী সকল বাঁধ ভাঙ্গা ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা।
১৩. নদীর জলোত্তনে পরিমিত ব্যবহারের নীতিমালা প্রণয়ন।
১৪. নদীতে জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কল্পে নদী অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা।
১৫. নদীভিত্তিক পর্যটনের নীতিমালা প্রণয়ন।
১৬. নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমাজভিত্তিক যৌথ কর্ম-পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
১৭. নদী ও হাওর-বাওড় বিলের সংযোগ পুনর্বহাল করা।
১৮. নদী রক্ষা বিষয় শিক্ষা, গবেষণা, সচেতনতা, প্রচার, প্রকাশ, কার্যক্রম জোরদার করা।
১৯. বর্ষা মৌসুমের জলধারণ কল্পে নদী তীরবর্তী সুবিধাজনক স্থানে কৃত্রিম হ্রদ সৃষ্টি করা।
২০. জোয়ার-ভাটার নদীর চরাঞ্চল ও নদীতীর ম্যানগ্রোভ বনায়নের আওতায় আনা।
সর্বোপরি আমাদের নদীমুখী হতে হবে। নদী আমাদের জীবন সাথী, অকৃত্রিম বন্ধু। তাই হই বন্ধুসুলভ।

সোমবার, ৫ মার্চ, ২০১৮

কাজীপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের মাঝে বীজ, সার বিতরণ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের সহায়তা প্রদানের জন্য খরিপ ১ মৌসূম গ্রীস্ম কালীণ তিল ও মূগের বীজ এবং সার প্রদান করা হয়। 
সোমবার স্থানীয় কৃষি অফিসের আয়োজনে এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা ইউএন ও শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সাংসদ, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছা সেবক লীগের সহসভাপতি প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয়। 
এসময় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক সরকার, ভাইসচেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বেল্লাল, কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী প্রমূখ।

বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮

ক্যাপ্টেন এম, মনসুর আলীর জন্ম দিবসে দোয়া-মিলাদ ও শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ 

পারভেজ আহমেদ, কাজিপুর প্রতিনিধিঃ
জাতীয় চার নেতার অন্যতম সাবেক প্রধানমন্ত্রী শহীদ ক্যাপ্টেন এম, মনসুর আলীর ১০১ তম জন্ম দিন উপলক্ষে দোয়া-মিলাদ মাহফিল ও দূস্থ্য ও শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন শহীদ মনসুর আলীর উত্তরসূরি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সুযোগ্য সন্তান প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় (সাবেক এমপি)। ১৯১৭ সালের ১৯শে জানুয়ারি আজকের এই দিনে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুরের কুড়িপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে এই মহান নেতা জন্মগ্রহণ করেন।

আজ ১৯শে জানুয়ারি মঙ্গলবার জেলার কাজিপুরে বিভিন্ন এলাকায় নিজে উপস্থিত থেকে দূস্থ্য ও শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয়। এসময় তিনি বলেন আমাদের দেশে বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ সহ উত্তর অঞ্চলে এবার প্রচুর শীত পরেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র দিয়ে পাশে দাড়িছেন, এখনো শীতবস্ত্র দেওয়া অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে শহীদ ক্যাপ্টেন এম, মনসুর আলীর ১০১ তম জন্ম দিবসে উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল আয়োজন করেন কাজিপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ।  উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শওকত হোসেন এর সভাপতিত্ব প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন শহীদ এম, মনসুর আলীর দৌহিত্র, কাজিপুরের সাবেক এমপি প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয়।

উক্ত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন কাজিপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, উপজেলা যুবলীগ, উপজেলা ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দ।

রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭

নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানোর আহবান প্রকৌশলী তানভীর শাকিল(সাবেক এমপি)

পারভেজ আহমেদ, কাজিপুর প্রতিনিধিঃ ১৬ই ডিসেম্বর কাজিপুর উপজেলা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় বলেন আমাদের যারা নতুন প্রজন্ম তাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধর সঠিক তথ্য ও ইতিহাস তুলে ধরার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অনুরোধ জানান। কারণ এখন যদি নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধর সঠিক ইতিহাস না জানে তবে ভবিষ্যতে যখন আপনারা থাকবেন না তখন যেন কোন যুদ্ধঅপরাধীর বংশধরা মুক্তিযুদ্ধর সঠিক ইতিহাসকে বিকৃতি করতে না পারে তাই এদেরকে এখনি সঠিক ইতিহাস যেনে রাখা প্রয়োজন।
উপস্থিত সন্মানিত মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বলেন বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে যেভাবে আপনারা মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করেছেন তেমনি আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে নৌকা মার্কাকে নির্বাচিত করে মুক্তিযুদ্ধর অপশক্তিকে আ বারের মত ভোটযুদ্ধে পরাজিত করতে হবে।উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে উক্ত  অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক,উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শওকত হসেন, সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, কাজিপুর উপজেলা প্রকৌশলী বাবলু মিয়া,উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাইনুল হক, উপজেলা ভাইজ চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন সহ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মী  উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৭

কাজিপুরের চরগিরিশ ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদেরকে ফুল দিয়ে বরণ

কাজিপুর প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জর কাজিপুর দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সিরাজী উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সভাপতি হাসানুজ্জামান তরফদার অনিক, সাধারন সম্পাদক কামরুল হাসান, সহ সভাপতি মনিরুজ্জামান সিরাজী, যুগ্ন সম্পাদক বিপ্লব হোসেন, বেলাল হোসেনকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

এসময় কাজিপুর উপজেলা ছাত্র লীগের সভাপতি শাহিন আলম, সাধারন সম্পাদক আলী আসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগ সহ সভাপতি শাওন সহ উপজেলার সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।

শনিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৭

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়ে উঠতে না পারলে ছাত্রলীগ করার দরকার নাই- সাবেক এমপি তানভীর শাকিল জয়

পারভেজ কাজিপুর :চরগিরিশ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রকৌশলী তানভীর জয় ( সাবেক এমপি সিরাজগঞ্জ -১) বলেন যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বিশ্বাস না করে তাদের ছাত্রলীগ করার দরকার নেই।ছাত্রলীগ করতে হলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়ে উঠতে হবে।এখন সরকার ক্ষমতাই আছে চাকরি আর কিছু সুবিধা পাওয়ার জন্য ছাত্রলীগের পদে আসার দরকার নাই।ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া সংগঠক যা এশিয়া মহাদেশের একটি শক্তিশালী সংগঠক হিসাবে পরিচিত। তিনি আরো বলেন ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে যারা আসবেন তারা ছাত্রলীগের ঐতিহ্যকে ধরে রেখে অতীতের নেয় আগামীতে আন্দোলন সংগ্রামে শক্ত হাতে মোকাবেলা করার আহবান জানান।
এর আগে তিনি জোরবারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন শুভ উদ্ভোধন করেন। চরগিরিশ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতীথির বক্তবে তিনি এসব কথা বলেন।বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সরিষাবাড়ি উপজেলার সাবেক এমপি ডা:মুরাদ হাসান। সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক বকুল, কাজিপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রাহমান, যুগ্ন সা:সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী বাবলু মিয়া,উপজেলা যুবলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক,উপজেলা  ছাত্রলীগের সভাপতি- সাধারণ সম্পাদক, স্বেছাসেনকলীগের সাধারণ সম্পাদক সহ প্রমুখ।

শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭

৭ মার্চের ভাষণ "ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দি ওয়ার্ল্ড রেজিস্ট্রার " জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালী

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই ভাষণ মুক্তিযোদ্ধাসহ সমগ্র বাঙালিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। ৪৬ বছর পর আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বাঙালি জাতিকে গর্বিত করেছে।
“বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ” আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি উদযাপন উপলক্ষে শনিবার (২৫ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রার শুরুর আগে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন বক্তারা।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না এমপি, সেলিনা বেগম স্বপ্না, জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা, পুলিশ সুপার মিরাজ, পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আবু নুর মো. শামছুজ্জামান, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এড. বিমল কুমার দাস।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতিকে মুক্তি এনে দিয়েছে। এ ভাষণ না হলে স্বাধীনতা আসতো না। তাই ঐতিহাসিক এ ভাষণকে সকল শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে অর্ন্তভুক্ত করার দাবী জানান বক্তারা।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়েল সামনে সমাবেশ শেষ একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাজার ষ্টেশন মুক্তির সোপান চত্বরে এসে শেষ হয়। বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দসহ কয়েক হাজার নারী-
পুরুষ ব্যানার ফেষ্টুন নিয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা ও পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন। জেলা শহর ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

মুত্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়ে জীবন বাজি রেখে আমি কাজ করছি

সততার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা এখানে দিতে এসেছি। রক্ত দিয়েছি। বাবা-মা, ভাই, ভাইদের স্ত্রীদের আর এখন জীবনটা বাজী রেখেছি কেবল একটাই কারণে এই বাংলাদেশটা যেন স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে উন্নত-সমৃদ্ধ হয় এবং বিশ্বের দরবারে মর্যাদার সঙ্গে যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি সততার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘মুত্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়ে জীবন বাজি রেখে আমি কাজ করছি। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন এবং তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নই আমার সরকারের মূল লক্ষ্য।’
জাতীয় পার্টির সদস্য ফখরুল ইমামের ‘পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্স’ নামক সংস্থার দু’টি গবেষণা প্রতিবেদন সম্পর্কিত এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ধন সম্পদ মানুষের চিরদিন থাকে না, মানুষকে মরতে হয়। সব রেখে চলে যেতে হয়। তবুও মানুষ অবুঝ। সম্পদের লোভে সে অস্থির হয়ে পড়ে এটা ঠিক। এটা মানুষের একটা স্বভাবজাত প্রবৃত্তি। এই প্রবৃত্তিটাকে যে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে সেই পারে দেশকে কিছু দিতে, জনগণকে দিতে। আমরা এখানে দিতে এসেছি।’
‘পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্স’ নামক সংস্থার গবেষণায় ১৭৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের কর্মকান্ড বিশ্লেষণ করে তারা শেখ হাসিনাকে বিশ্বের ৩য় সৎ সরকার প্রধান হিসেবে এবং বিশ্বের ৪র্থ কর্মঠ সরকার প্রধান হিসেবে অভিমত দিয়েছে। সবচেয়ে সৎ সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানের তালিকার শীর্ষে জার্মানীর চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল এবং দ্বিতীয় সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং। অন্যদিকে কর্মঠ সরকার প্রধানের তালিকায় শেখ হাসিনা রয়েছেন ৪র্থ স্থানে। এরআগে চীন, ইরান এবং তুরষ্কের রাষ্ট্র প্রধানরা রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আগেও বলেছি এখনও বলব কি পেলাম কি পেলাম না সে হিসেবে মেলাতে আমি আসিনি। কে আমাকে স্বীকৃতি দিল কে দিলনা সে হিসেবটাও আমার নাই। আমার একটাই হিসাব- এই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কতটুকু কাজ করতে পারলাম।
তিনি বলেন, আমি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই গবেষণায় যাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাদের দেশে জনসংখ্যা কত? আর আমার দেশের জনসংখ্যা কত? এটা যদি তারা একটু তুলনা করতেন তাহলে হয়তো হিসেবটা পাল্টে যেত। কারণ আমাদের মত প্রতিকুল অবস্থার মধ্যদিয়ে তাদের চলতে হয়নি। কেউ গ্রেনেড হামলার শিকার হয়নি বা তাদের কাউকে ৭৬ কেজি বোমা পুঁতে রেখে হত্যার চেষ্টাও হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় কথা- আমাদের ক্ষুদ্র ৫৫ হাজারের কিছু বেশি বর্গমাইলের ভুখন্ডে ১৬ কোটির বেশি মানুষের বসবাস। তারপরও তালিকার শীর্ষে যারা রয়েছেন তাদের কিন্তু বাবা-মা বা আপনজন হারাতে হয়নি। অত্যাচারিত-নির্যাতিত হতে হয়নি, জেলের ভাত খেতে হয়নি, মিথ্যা মামলায় জর্জরিত এমনটি তাদের উপর এতবারের প্রাণঘাতি হামলাও হয়নি। কিন্তুু আমাদের দেশের পরিবেশটাই আলাদা।
তিনি বলেন, আমি মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়ে জীবন বাজী রেখে বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। সেখানে নিজের জীবনে অর্থ-সম্পদ, টাকা-পয়সা- কি আছে না আছে ঐটা নিয়ে আমি কখনও চিন্তাও করিনা। ঐটা নিয়ে আমার কোন চিন্তা বা দুশ্চিন্তা নাই। আল্লাহ জীবন দিয়েছেন, জীবনতো একভাবে না একভাবে চলেই যাবে।তিনি বলেন, যত নেতাদের জরিপ করা হয়েছে তার মধ্যে আমাকেই কেবল বাবা-মা, ভাইদের হারিয়ে শরণার্থী হিসেবে বিদেশে থাকতে হয়েছে। কাজেই এমন অভিজ্ঞতাও তাদের নাই।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াও কখনও অব্যাহত ছিল না। প্রতিবারই বাধা এসেছে এবং আমাদেরকে পুনরায় আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হয়েছে এবং সেই গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্যদিয়েই আজকে দেশের এই উন্নতি।
দৈনিক ১২-১৪ ঘন্টা তিনি কাজ করেন গবেষণায় আসা এমন তথ্যের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ ঘন্টা-১৪ ঘন্টা কাজের প্রশ্ন নয়, অনেক সময় এমনও দিন যায় যে রাতে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টার বেশি ঘুমাতে পারি না। যখনই কাজ আসে তখনই কাজ করতে হয়। সেটা আমরা করে যাই মনের টানে। আমার বাবা দেশটা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন । তাঁর একটা স্বপ্ন ছিল এই বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত ভাবে গড়ে তুলবেন। তিনি দেশ স্বাধীন করে সেই পদক্ষেপও নিয়েছিলেন। কিন্তুু সম্পন্ন করে যেতে পারেন নি। বিপদগামী একদল ঘাতকের নির্মম বুলেটে প্রাণ দিতে হয়েছে তাঁকে এবং গোটা পরিবারকে। একটাই চ্যালেঞ্জ-যে কাজটা আমার বাবা সম্পন্ন করে যেতে পারেননি সেই অসম্পূর্ণ কাজটা আমি সম্পন্ন করতে চাই।
তিনি বলেন, এই বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তবুও আমি বলব, এই হিসেব-নিকেশ যারা করেছেন। তাদের মত করে তাদের অভিমত দিয়েছেন। তাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই। ব্যক্তিগত না হলেও সরকারের কিছু দুর্নীতির কারণে প্রধানমন্ত্রী তালিকার আরো উপরে কথার কথা থাকলেও তৃতীয় হয়েছেন প্রশ্নকর্তার এমন বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে দেশে সামরিক স্বৈরশাসন চালু, যে দেশে গণতন্ত্রের অভাব, যে দেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব থাকে। সেদেশে দুর্নীতিটার শিকড় গেড়ে যায়। সেই শিকড় উপড়ে ফেলা কঠিন হয়ে যায়।
শেখ হাসিনা বলেন, ’৭৫ এর পর থেকে ২১ বছর কিন্তুু আমাদের দেশে সেই অবস্থাটাই চলেছে। এরপরে আবার ২০০১-২০০৮ (জামায়াত-বিএনপি জোটের শাসন) পর্যন্ত এই অবস্থা। ঐরকম একটা অবস্থা অর্থাৎ উত্তরাধিকার সূত্রে আমি কি পেয়েছি। পেয়েছি সামরিক স্বৈরশাসন, সামরিক আইন, অনিয়ম, অবিচার, অত্যাচার যার ফলে সেই দুর্নামের এখনও ভাগীদার হতে হচ্ছে। তবে, হ্যাঁ আমি নিজে সততার সঙ্গে দেশ চালাতে চেষ্টা করছি। আর একটা কথা মনে রাখবেন মাথায় পচন ধরলে সারা শরীরেই ধরে। যেহেতু মাথায় পচন ধরে নাই সুতরাং শরীরের কোথাও যদি এক আধটু ঘা-টা থাকে সেগুলি আমরা সেরে ফেলতে পারবো।
সরকার প্রধান বলেন, ঐ রকম যদি দুর্নীতি হত তাহলে বাংলাদেশের জিডিপি ৭ দশমিক ২৮ ভাগ এবং জনগণের মাথাপিছু আয় ১৬১০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হত না। এতবড়ো বড় রাস্তা-ঘাট, স্থাপনা এত স্বল্প সময়ে আমরা করতে পারতাম না। এই দুর্নীতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই পদ্মা সেতু আমরা নিজেদের অর্থায়নে তৈরি করছি। আমরা সেই চ্যালেঞ্জটা দিতে পেরেছি। এখানে সততারই শক্তি, সততারই জোর-এটা প্রমাণিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখানে দিতে এসেছি। রক্ত দিয়েছি। বাবা-মা, ভাই, ভাইদের স্ত্রীদের আর এখন জীবনটা বাজী রেখেছি কেবল একটাই কারণে এই বাংলাদেশটা যেন স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে উন্নত-সমৃদ্ধ হয় এবং বিশ্বের দরবারে মর্যাদার সঙ্গে যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। তিনি বলেন, এই প্রতিবেদনটি যারাই করুক তাতে আমার দেশের সম্মান বেড়েছে এটাই পাওনা। 

সিরাজগঞ্জের সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।